Tuesday, January 25, 2022
Mitochondrial Health

মাইটোকনড্রিয়া Mitochondria Structure and Functions.



মাইটোকন্ড্রিয়া

মাইটোকন্ড্রিয়া কাকে বলে ও মাইটোকন্ড্রিয়ার সংজ্ঞা

দুটি পর্দা দ্বারা আবৃত গোলাকার, ডিম্বাকার, সুতোর মতো অঙ্গাণু ।
মাইটোকনড্রিয়াকে সুতোর মতো দানাময় অঙ্গাণু বা কনড্রিওজোম বলে।
মাইটোকনড্রিয়া দ্বিপর্দাযুক্ত সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণু যারা সবাত শ্বসনের জন্য প্রয়োজনীয় উৎসেচক এবং শক্তি সরবরাহ করে থাকে।

মাইটোকনড্রিয়ার আবিষ্কার

এ কলিকার প্রথম পেশি কোষের অঙ্গাণু পর্যবেক্ষণ করে এর নাম দেন সার্কোজোম। বিজ্ঞানী ফ্লেমিং এর নাম দেন ফিলিয়া, অল্টম্যান মাইটোকনড্রিয়ার নাম দেন বায়োব্লাস্ট, বেন্ডা সর্বপ্রথম মাইটোকনড্রিয়া নামটি প্রদান করেন। পরবর্তীকালে বহু বিজ্ঞানী বিভিন্নভাবে মাইটোকনড্রিয়ার অন্তর্গঠন এবং কাজের বিবরণ দিয়েছেন।

মনে রাখা প্রয়োজন,—-মাইটোকনড্রিয়া একটি স্বনির্ভর অঙ্গাণু। আত্মপ্রজননশীলতা, নিজস্ব ডিএনএ, আরএনএ, রাইবোজোম, এবং স্বনির্ভর উৎসেচকের অবস্থান মাইটোকনড্রিয়াকে স্বনির্ভর করেছে।

মাইটোকনড্রিয়ার উৎপত্তি আদি মাইটোকনড্রিয়া থেকে হতে পারে অথবা কোষ আবরণী, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা, নিউক্লিয় আবরণী থেকেও মাইটোকনড্রিয়ার উৎপত্তি হতে পারে।

মাইটোকন্ড্রিয়ার বিস্তৃতি

আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত কোষে মাইটোকনড্রিয়া থাকে না। তবে ব্যাকটেরিয়া কোষে মেসোজোম নামের মাইটোকনড্রিয়া সদৃশ উপাঙ্গ থাকে। পরিণত লোহিত কণিকায় মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে না। কিন্তু অপরিণত লোহিত কণিকায় মাইটোকনড্রিয়া থাকে। সাধারণত যেসব কষে বিপাক কাজ দ্রুত চলে, সেইসব কোষে বেশি সংখ্যায় মাইটোকনড্রিয়া থাকে। মাইটোকন্ড্রিয়া একক ভাবে অথবা দলবদ্ধভাবে কোষের মধ্যে ঘুরে বেড়ায়। পেশি কোষের কোষ পর্দা সংলগ্ন মাইটোকন্ড্রিয়াকে সারকোজোম বলে।

মাইটোকনড্রিয়ার আকৃতি

মাইটোকন্ড্রিয়ার আকৃতি দানাদার, তন্তুময়, গোলাকার, ডিম্বাকার, এবং চাকতির মত হয়। এরা দৈর্ঘ্যে 3.0 ইউ এম থেকে 7.0 পর্যন্ত হয় এবং প্রস্থে 1 থেকে 1.5 পর্যন্ত হয়।

মাইটোকন্ড্রিয়ার সংখ্যা

সাধারণত কোষের জৈবিক কাজের উপরেই কোষের মাইটোকন্ড্রিয়ার সংখ্যা নির্ভরশীল। উন্নত শ্রেণীর উদ্ভিদ কোষে 100 থেকে 3000 মাইটোকনড্রিয়া থাকে। এককোষী শৈবাল মাইক্রোস্টেরিয়স, পলিটোমেলা, আদ্যপ্রাণী মাইক্রোমোনাস কোষে 50000 মাইটোকনড্রিয়া থাকে। উভচরের ডিম্বানুতে মাইটোকন্ড্রিয়ার সংখ্যা তিন লক্ষ হয়ে থাকে। পতঙ্গের ডানা পেশিতে সবচাইতে বেশি মাইটোকনড্রিয়া থাকে।

মাইটোকন্ড্রিয়ার গঠন

সোস্ট্রান্ড,রোগিনী,পালাবপ্রভাতী বিজ্ঞানী ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে মাইট্রোকন্ডিয়ার সূক্ষ্ম দেহগঠন পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করেন।মাইটোকন্ড্রিয়ার গঠন আলোচনা করা হল

ক) মাইটোকনড্রিয়ার বাইরে দুটি 60Å চওড়া একক আবরণী থাকে।

খ) এদের যথাক্রমে অন্তঃআবরণী এবং বহিঃআবরণী বলা হয়। আবরণী দুটি প্রোটিন লিপিড প্রোটিন দিয়ে তৈরি ত্রিস্তর বিশিষ্ট আবরণী।

গ) এই দুই আবরণী স্তর এর মধ্যে ব্যবধান 60 থেকে 80Å চওড়া হয়। আবরণী দুটির মাঝখানের গহবরকে বহিঃপ্রকোষ্ঠ বলে।

ঘ) এই অংশে এক ধরনের তরল পুর্ন থাকে। অন্তঃআবরণী দিয়ে পরিবেষ্টিত ভিতরের গহবরকে অন্তঃপ্রকোষ্ঠ বলে।

ঙ) একে মাইটোকনড্রিয়ার ধাত্রও বলা হয়।

চ) এই অংশে 30 থেকে 50Å যুক্ত রাইবোজোম থানা এবং ২ থেকে ৬ চক্রাকার ডিএনএ তন্তু এবং ক্রেবস চক্রের প্রয়োজনীয় উৎসেচক থাকে।

ছ) অন্তঃআবরণী অংশে প্রান্তীয় শ্বসনের উৎসেচক থাকে। অন্তঃআবরণীটি ভিতরের দিকে অনিয়মিতভাবে ভাঁজ হয়ে আঙুলের মতো একাধিক প্রবর্ধক তৈরি করে।

জ) এই প্রবর্ধকগুলিকে ক্রিস্টি বলে। এরা ভিতরের মাইটোকনড্রিয়ার ধাত্রকে কতগুলি অসম্পূর্ণ প্রকোষ্ঠে ভাগ করে।

ঝ) ক্রিষ্টির ভিতরকার গহবরকে অন্তঃক্রিষ্টি গহবর বলে। এই গহবর বহিঃপ্রকোষ্ঠৈ সঙ্গে যুক্ত থাকে।

ঞ) অন্তঃআবরণীর ক্রিষ্টি অংশের ভিতর গায়ে ধাত্রের দিকে অসংখ্য টেনিস রেকেটের মত দানাদার বস্তুর সমান দূরত্ব যুক্ত থাকে।

ট) দানা গুলির মধ্যে দূরত্ব প্রায় 100Å হয়।

ঠ) এদের প্রাথমিক বস্তু বা FoF1 বস্তু বা ফার্নান্ডেজ মোরান অধঃএকক বা অক্সিজোম বলে।

ড) প্রতিটি থানা আবার তিনটি অংশ নিয়ে গঠিতঢ)
মাইটোকন্ড্রিয়ার বাইরের পর্দার গায়েও অসংখ্য 89Å ব্যাসযুক্ত দানা সমান দূরত্বে যুক্ত থাকে
ণ) গোলাকার ফাঁপা এই দানাগুলির ব্যাস 60Å এবং কেন্দ্রীয় গহব্বরে 20Å হয়।
ত) এদের পারসনের অধঃএকক বলে।

থ) মাইটোকন্ড্রিয়ার ধাত্রে প্রোটিন ও উৎসেচক অনু দেখা যায়।

মাইটোকন্ড্রিয়ার কাজ

মাইটোকন্ড্রিয়ার কাজ নিচে বর্ণনা করা হলো

ক) শ্বসন প্রক্রিয়ায় ক্রেবস চক্রের প্রয়োজনীয় বিক্রিয়া পরিচালনা করে।

খ) শ্বসনের ফলে নির্গত শক্তি থেকে ATP অনু সংশ্লেষ করে।

গ) মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের প্রয়োজনীয় শক্তিযুক্ত অনুর যোগান দেয়।

ঘ) মাইটোকন্ড্রিয়াতে স্নেহ দ্রব্য সংশ্লেষক লেসিথিন এবং ফসফেটিডাইল-ইথানল-অ্যামাইন জাতীয় স্নেহদ্রব্য সংশ্লেষ করে।

ঙ) ফ্যাটি এসিড বিপাকও নিয়ন্ত্রণ করে। শ্বসনের উপযোগী সকল উৎসেচক মাইট্রোকন্ডিয়ায় থাকে।

মাইটোকন্ড্রিয়ার মধ্যে কোষের প্রয়োজনীয় শক্তি (শ্বসনের ক্রেবস চক্রে) উৎপন্ন হওয়ায় মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তিঘর বলে।

source

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *